1. kmohiuddin456@gmail.com : admin :
  2. dailybanglarrobi@gmail.com : Arif Mahamud : Arif Mahamud
  3. jahedulhaque24@gmail.com : Jahidul Hoque Masud : Jahidul Hoque Masud
রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে, যোগাযোগ : ০১৭০৮ ৫১৫৫৩৫, প্রচারেই প্রসার # সকল প্রকার বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - ০১৭১২ ৬১৮৭০০

এক রাজনীতিবিদের বর্ণাঢ্য জীবনের অবসান

রিপোর্টার :
  • হালনাগাদ : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২০
  • ৪৪ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক :
মোহাম্মদ নাসিম বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত ও বলিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগের প্রতিটি রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে মিশে আছে তার নাম। নাসিম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। তিনি বর্তমান সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন। ১৪ দলের মুখপাত্র হিসেবেও কাজ করে আসছিলেন মোহাম্মদ নাসিম।

শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে মারা যান এই বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ব্যক্তি। আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ নাসিমের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে।

তার পিতা অন্যতম জাতীয় নেতা শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। যিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে গঠিত বাংলাদেশ সরকারে অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এবং স্বাধীনতা পরবর্তী বঙ্গবন্ধু সরকারের মন্ত্রিসভায় নাসিম দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

মোহাম্মদ নাসিমের মায়ের নাম মোসাম্মৎ আমিনা খাতুন, যিনি আমেনা মনসুর হিসেবেই পরিচিত। তিনি একজন গৃহিণী ছিলেন। পারিবারিক জীবনে নাসিম বিবাহিত এবং তিন সন্তানের জনক। তার স্ত্রীর নাম লায়লা আরজুমান্দ। মোহাম্মদ নাসিম জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৮৬, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন মোহাম্মদ নাসিম। পরবর্তী সময়ে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে তিনি সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০১৪-১৮ সরকারে নাসিম স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালের সরকারে তিনি স্বরাষ্ট্র, গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ১৪ দলীয় মহাজোটের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতির পাশাপাশি সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আছেন মোহাম্মদ নাসিম। ঢাকাসহ নিজ এলাকা সিরাজগঞ্জে বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন।

ছাত্রজীবনের প্রথম দিকে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন মোহাম্মদ নাসিম। পরে অল্প কিছু দিন ছাত্রলীগের রাজনীতিও করেন। ছাত্ররাজনীতি ছাড়ার পরে যুবলীগের রাজনীতি করলেও ১৯৮১ সালের আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন মোহাম্মদ নাসিম। ওই সম্মেলনে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের যুব সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৭ সালের সম্মেলনে তিনি দলের প্রচার সম্পাদক মনোনীত হন।

১৯৯২ ও ১৯৯৭ সালের সম্মেলনে মোহাম্মদ নাসিমকে দলের একমাত্র সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে ২০০২ ও ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত দলের সম্মেলনে তাকে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির এক নম্বর সদস্য পদে রাখা হয়। এরপর ২০১২ সালের সম্মেলনে তাকে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এরপর টানা তিন মেয়াদে তিনি এই দায়িত্ব পালন করছেন।

পারিবারিক জীবনে মোহাম্মদ নাসিমের স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে। তার স্ত্রীর নাম লায়লা আরজুমান্দ। মোহাম্মদ নাসিমের বড় ছেলে তানভীর শাকিল জয় এমপি ছিলেন।

উল্লেখ্য, আটদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে আজ শনিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত ৫ জুন করোনা আক্রান্ত ও স্ট্রোকের পর থেকে ‘ডিপ কোমায়’ ছিলেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তখন মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে তানভীর শাকিল জয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, স্ট্রোকের পরে তার বাবার সার্জারি সফল হয়েছে। তবে তার মস্তিষ্কে এতো বেশি রক্তক্ষরণ হয়েছে যে, অস্ত্রোপচারের পরও মাথার মধ্যে রক্ত জমাট বেধে রয়েছে। এমন অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলেই চিকিৎসকরা বলেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার বাবার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়।

এর আগে, গত ১ জুন রক্তচাপজনিত সমস্যা রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। ওই দিনই তার করোনা শনাক্ত হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

এই শাখায় অন্যান্য খবর
%d bloggers like this: