1. kmohiuddin456@gmail.com : admin :
  2. dailybanglarrobi@gmail.com : Arif Mahamud : Arif Mahamud
  3. jahedulhaque24@gmail.com : Jahidul Hoque Masud : Jahidul Hoque Masud
মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে, যোগাযোগ : ০১৭০৮ ৫১৫৫৩৫, প্রচারেই প্রসার # সকল প্রকার বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - ০১৭১২ ৬১৮৭০০

ভালোবাসা হারেনি নয় বছরের !

রিপোর্টার :
  • হালনাগাদ : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২০
  • ৪৫ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক :
যুগে যুগে পৃথিবীতে প্রেম-ভালোবাসা অমর হয়ে রয়েছে। সেই আদিকাল থেকেই এমন অনেক প্রেমকাহিনি আমরা শুনে এসেছি, যা আমাদের হৃদয়স্পর্শ করে। যুগে যুগে আমরা শুনে এসেছি লায়লি-মজনু, শিরি-ফরহাদ, রোমিও-জুলিয়েট ইত্যাদি এমন অনেক প্রেম গাঁথা। নকশিকাঁথার মাঠে সাজু-রূপাইয়ের প্রেম গাঁথাও কারো কাছে অজানা নয়।
তবে বর্তমানে এমন ভালোবাসা কই? এমনটাই সবার প্রশ্ন। না, ভালোবাসা হারিয়ে যায়নি। এখনো রয়েছে এমন হৃদয়স্পর্শী ভালোবাসা। যা অনায়াসে আপনার চোখে জল এনে দেবে। এক প্রেমকাহিনি। যা আপনার হৃদয় ছুয়ে যাবে। যে কাহিনি আপনাকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করবে যে, আজো আদিযুগের মতো সত্যিকারের ভালোবাসা পৃথিবীতে রয়েছে।

স্কুলের গন্ডি না পেরতেই ক্যান্সারে আক্রান্ত হন মেয়েটি। তবে হেরে যায়নি তাদের ভালোবাসা। প্রেমিকার শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত প্রেমিক তার পাশে থাকে ঠিক ছায়ার মতো। ক্যান্সারের মতো জটিল রোগও হার মানে তাদের ভালোবাসার কাছে।

উত্তর দিনাজপুরের টুঙ্গিদিঘির বাসিন্দা সুব্রত কুণ্ডু। বাবা শক্তিপদ কুণ্ডুর চালের ব্যবসা। দুই ভাইও বাবার ব্যবসা দেখছেন। সুব্রত একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। টুঙ্গিদিঘি হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করে উচ্চ মাধ্যমিক পড়তে শিলিগুড়ি আসেন তিনি।

বয়েজ হাই স্কুলে পড়ার সময় বন্ধুদের মাধ্যমে আলাপ হয় শিলিগুড়ি নেতাজি গার্লস স্কুলের ছাত্রী বীথি দাসের সঙ্গে। ২০০৯ সাল থেকে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। বিপত্তি ঘটে দু’বছর পর। ২০১১ সালে বীথি তখন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। টেস্টের ফল প্রকাশিত হয়েছে। ডান হাতের কব্জিতে একটি টিউমার থেকে বীথি অসুস্থ হয়ে পড়েন। শিলিগুড়িতে অস্ত্রোপচার করে তা বাদও দেয়া হয়। তবে বায়োপসি রিপোর্টে ধরা পড়ে, টিউমারটি ম্যালিগন্যান্ট। সেই থেকে লড়াই শুরু।

চিকিৎসার জন্য এক বছর মুম্বাইয়ে থাকতে হয় বীথিকে। সেই থেকে সুব্রত কখনো মুম্বই, কখনো শিলিগুড়ি করে চলেছেন। বীথির বাবা কালীপদ দাস রেলের লোকো-পাইলট ছিলেন। মেয়ের চিকিৎসার জন্য তিনি স্বেচ্ছাবসর নেন।

সুব্রতর জানায়, কেমো থেরাপির পর ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বীথি সুস্থ ছিলেন। এরপর রোগ ছড়াতে শুরু করে অন্যত্র। ফের রেডিয়োথেরাপি চালানোর পর আবার তিন বছর সুস্থ ছিলেন। ফের কব্জি এবং কনুইয়ের কাছে একই উপসর্গ। চিকিৎসক হাত কেটে বাদ দিতে বললেন। তাই করা হলো। ২০১৮ সালের অক্টোবরে চিকিৎসক বললেন, আর ভয় নেই। বাধা নেই বিয়েতেও।

সুব্রত জানালেন, সেই শান্তি বেশি দিন রইল না। ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ল। এরপর চার বার নার্সিং হোমে ভর্তি করানো হয়। কিছুটা ক্লান্ত স্বরেই তিনি বলেন, ‘এবার আর বীথিকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারলাম না।’

পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, বীথির ইচ্ছে ছিল সুব্রতকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার। সেজন্য সেই দুই পরিবারের উপস্থিতিতে শেষ ইচ্ছে পূরণ করেন সুব্রত। তাদের ঘটনাটি আপ্লুত করে রেখেছে দুই পরিবারকে। এ কয় বছরে তাকে সুস্থ করতে পরিবারের সঙ্গে সুব্রতও ছুটেছেন, কখনো মুম্বাইয়ে, কখনো বেঙ্গালুরুতে, কখনো বা শিলিগুড়িতে।

শেষ পর্যন্ত প্রেমিকার পাশে থেকে তার শেষ ইচ্ছেকে মর্যাদা দিয়ে বীথির সিঁথিতে সিঁদুর দেয় সুব্রত। তারপর, সব শেষ…। ভারতের শিলিগুড়ির একটি নার্সিং হোমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বীথি।

মারণ কর্কট রোগে আক্রান্ত বীথির সঙ্গে যেভাবে গত ৯ বছর ধরে আঁকড়ে ছিলেন সুব্রত, তা কিছুটাহলেও অবাকই করেছে দুই পরিবারকে। সেই সঙ্গে সারা পৃথিবীকেও।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

এই শাখায় অন্যান্য খবর
%d bloggers like this: