1. kmohiuddin456@gmail.com : admin :
  2. dailybanglarrobi@gmail.com : Arif Mahamud : Arif Mahamud
  3. jahedulhaque24@gmail.com : Jahidul Hoque Masud : Jahidul Hoque Masud
বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে, যোগাযোগ : ০১৭০৮ ৫১৫৫৩৫, প্রচারেই প্রসার # সকল প্রকার বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - ০১৭১২ ৬১৮৭০০

পাঁচ জেলায় আটজনের মৃত্যু আইনজীবীর লাশ পড়ে ছিল দুই ঘণ্টা, কাছে যায়নি কেউ

রিপোর্টার :
  • হালনাগাদ : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২০
  • ৮২ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক:
করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী মহানগরে নিজ বাড়িতে চেয়ারে বসা অবস্থায় মারা গেছেন এক প্রবীণ আইনজীবী। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে ভেবে প্রতিবেশীরা কেউ লাশের পাশে যাননি। ফলে লাশ অন্তত দুই ঘণ্টা চেয়ারেই ছিল। পরে খবর পেয়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবী কর্মীরা লাশ সৎকারের ব্যবস্থা করেন। গতকাল শুক্রবার কুমারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কভিড-১৯-এর উপসর্গ (জ্বর, সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি) নিয়ে আরো পাঁচ জেলায় গত বৃহস্পতিবার রাতে এবং গতকাল মৃত্যু হয়েছে আটজনের। বিস্তারিত আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে—

রাজশাহী : মৃত আইনজীবীর নাম কৃষ্ণ কমল দত্ত (৮৫)। কুমারপাড়ার কালীমাতা মন্দিরের পেছনের বাড়িটি তাঁর। নিঃসন্তান কৃষ্ণ কমল বাড়িতে একা থাকতেন। তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে বাবার বাড়িতে থাকেন। কৃষ্ণ কমল রাজশাহী ও নাটোর জেলা জজ আদালত ও বিভাগীয় শ্রম আদালতে ওকালতি করতেন। প্রায় ১০ দিন ধরে তিনি জ্বর ও কাশিতে ভুগছিলেন। তবে তাঁর শ্বাসকষ্ট ছিল না।

কৃষ্ণ কমলের ভাতিজা সুইট কুমার দত্ত জানান, তাঁর চাচার অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি গত মঙ্গলবার নাটোরের সিংড়া থেকে রাজশাহীতে আসেন। গতকাল সকাল ১০টার দিকে তিনি বাইরে খাবার আনতে যান। কিছুক্ষণ পর এসে দেখেন চেয়ারে বসা অবস্থায় চাচা মারা গেছেন।

সুইট আরো জানান, বৃহস্পতিবার কৃষ্ণ কমলকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। করোনার উপসর্গ আছে জেনে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে রাজশাহীর খ্রিস্টিয়ান মিশন হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসক কয়েকটি ওষুধ লিখে দেন। এরপর তাঁকে বাসায় নেওয়া হয়। তবে তিনি করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে চাইলেও তা নেওয়া হয়নি। মিশন হাসপাতালে তাঁকে জানানো হয়, বাসায় বিশ্রামে থেকে নিয়ম মেনে ওষুধ খেলেই তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।

অবশ্য হাসপাতালটিতে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। এদিকে কৃষ্ণ কমলের মৃত্যুর পর প্রতিবেশীরা বিষয়টি হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতাদের জানান। তাঁরা খবর দেন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে। দুপুর সাড়ে ১২টার পর ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে মরদেহের কাছে যান; জীবাণুনাশক ছিটিয়ে মরদেহ শ্মশানে নিয়ে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সহায়তায় সৎকার করেন।

নগরীর বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, মৃত্যুর খবর পেয়ে লাশ সৎকারের জন্য কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

জামালপুর : বকশীগঞ্জ উপজেলায় নিজ বাড়িতে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঢাকা থেকে আসা মকবুল হোসেন (৩২) নামের এক দর্জির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা বকশীগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। উপজেলার নিলাক্ষিয়া ইউনিয়নের বিনোদের চর গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে তিনি। রাতেই তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর নমুনা সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বকশীগঞ্জের ইউএইচএফপিও ডা. প্রতাপ কুমার নন্দী যুগ যগান্তর কে বলেন, ‘মকবুলকে হাসপাতালে আনার পর মৃত অবস্থায় পেয়েছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুক্রবার তাঁর দাফন হয়েছে।’

কুমিল্লা : গতকাল দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন চারজন। তাঁরা হলেন কুমিল্লার চান্দিনার কাঁসারিখোলার ইদ্রিস মিয়া (৬০), কুমিল্লা সদর উপজেলার বদরপুরের হনুফা বেগম (৪৬), চান্দিনার শাহানারা বেগম (৬০) এবং লাকসামের গোবিন্দপুরের আবদুল মান্নান (৬৫)। হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান এ তথ্য জানান।

ভালুকা : ময়মনসিংহের ভালুকায় কয়েক দিন ধরে করোনার উপসর্গে ভুগে বৃহস্পতিবার রাতে মারা যান ভ্যানচালক মফিজ উদ্দিন মফি (৫৫)। তিনি ভালুকা পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের নবী হোসেনের ছেলে। তাঁর নমুনা সংগ্রহ ও স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে লাশ দাফন করা হয়েছে।

বিরামপুর : দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কসবাসাগরপুর গ্রামে গতকাল মো. দেলোয়ার হোসেন (৬০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তিনি গ্রামটির দসিমুদ্দিনের ছেলে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা তাঁর নমুনা সংগ্রহ করেছেন।

তালা : সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় নিজ বাড়িতে গতকাল ভোরে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে মুদি ও আম ব্যবসায়ী মো. বজলুর রহমান গাজীর (৫২) মৃত্যু হয়। তিনি বারুইহাটি গ্রাামের মৃত সরফুদ্দীন গাজীর ছেলে এবং তালা বাজারের খেয়াঘাট মোড়ের ব্যবসায়ী। স্বজনরা জানান, ব্যাবসায়িক কারণে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের পরে বজলুর রহমান যশোর যান। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনি যশোর থেকে বাড়িতে ফেরেন। এর কয়েক দিন পরে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার তালা হাসপাতালে গিয়ে নমুনা দিয়ে আসেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

এই শাখায় অন্যান্য খবর
%d bloggers like this: