1. kmohiuddin456@gmail.com : admin :
  2. dailybanglarrobi@gmail.com : Arif Mahamud : Arif Mahamud
  3. jahedulhaque24@gmail.com : Jahidul Hoque Masud : Jahidul Hoque Masud
বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে, যোগাযোগ : ০১৭০৮ ৫১৫৫৩৫, প্রচারেই প্রসার # সকল প্রকার বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - ০১৭১২ ৬১৮৭০০

আরো অবনতি টাঙ্গাইলে বন্যা পরিস্থিতি

রিপোর্টার :
  • হালনাগাদ : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২০
  • ২৩ Time View

আরো অবনতি টাঙ্গাইলে বন্যা পরিস্থিতি
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইলে আবারো যমুনা, বংশাই ও ধলেশ্বরীসহ কয়েকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে চারটি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই আরো অবনতি হচ্ছে। জেলার ৯ টি উপজেলা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের গ্রামগুলো নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে।
নতুন নতুন রাস্তাঘাট ও ব্রিজ পানির স্রোতে ভেঙে যাচ্ছে। জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের অনেক গ্রামের ঘড়-বাড়ি, ফসলি জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যা দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যায় জেলায় এখন পর্যন্ত তিন লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ। হুমকির মুখে রয়েছে বিভিন্ন এলাকার রক্ষাবাঁধ। আর দ্বিতীয় দফার বন্যায় প্রায় ৭ হাজার হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত হয়েছে।

জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, শনিবার সকাল ৯ টার দিকে ধলেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার ১৫৫ সেন্টিমিটার, যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৮৩ সেন্টিমিটার, এবং ঝিনাই নদীর পানি বিপদসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্র জানায়, জেলায় এখন পর্যন্ত টাঙ্গাইল সদর, নাগরপুর, দেলদুয়ার, ভূঞাপুর, কালিহাতী, ধনবাড়ী, গোপালপুর, বাসাইল এবং মির্জাপুর উপজেলায় নিম্নাঞ্চল এবং চরাঞ্চলের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ নয় উপজেলার ৭৯ টি ইউপির অন্তত ৫৩৮ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অপরদিকে পাঁচটি পৌরসভার আংশিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বন্যায় তিন লাখ ১৩ হাজার ৬৭২ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দী পরিবারের সংখ্যা ৪৩ হাজার ৩০০টি। আর পানিবন্দী লোক সংখ্যা এক লাখ ৭৩ হাজার ২শ’ জন। অপরদিকে ৭৩৭টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে এবং আরো আংশিক ১৭ হাজার ৪৫৬ টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও দুইটি স্কুল নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আংশিক আরো ৬৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়া নদী ভাঙনে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত এবং আংশিক ৩৬ টি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই নয় উপজেলার ৫৫২ বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, জেলায় এখন পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সম্পূর্ণ কাচা সড়ক এবং আংশিক ৩৪৯ কিলোমিটার কাচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপরদিকে ৭১ কিলোমিটার পাকা সড়ক আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও সম্পূর্ণ পাঁচটি ব্রিজ এবং আংশিক ৪৩টি ব্রিজ ক্ষতি হয়েছে।

অন্যদিকে টিউওবেল ১৪১ টি এবং পাঁচ কিলোমিটার আংশিক নদীর বাঁধ ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া জেলায় মোট ৩৪ টি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। এই আশ্রয় কেন্দ্রের লোক সংখ্যা তিন হাজার ১৬১ জন। ১১টি গবাদি পশুও আশ্রয় নেয়। ৯২টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

এছাড়া জেলায় ৬০০ মেট্রিক টন জিআর চাল, নগদ ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। অপরদিকে শিশু খাদ্যের জন্য দুই লাখ টাকা এবং গো-খাদ্যের জন্য ৬ লাখ টাকা এবং ৬ হাজার শুকনা প্যাকেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এগুলো বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, প্রথম দফায় বন্যায় টাঙ্গাইলে তিন হাজার ৮৩৯ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ২৭ হাজার ২৩৩ জন। আর দ্বিতীয় দফায় বন্যায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে বোনা আমন, রোপা আমন (বীজতলা), আউশ, সবজি, লেবু রয়েছে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ফের নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামনে বন্যা পরিস্থিতি আরো ব্যাপক অবনতি হতে পারে। বিভিন্ন এলাকার রক্ষাবাঁধ ভাঙন রোধে কাজ করা হচ্ছে। পানি সরে গেলে নদী ভাঙন তীব্র হবে বলে তিনি জানান।

প্রিন্ট করুন

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

এই শাখায় অন্যান্য খবর
%d bloggers like this: