1. kmohiuddin456@gmail.com : admin :
  2. dailybanglarrobi@gmail.com : Arif Mahamud : Arif Mahamud
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে, যোগাযোগ : ০১৭০৮ ৫১৫৫৩৫, প্রচারেই প্রসার # সকল প্রকার বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - ০১৭১২ ৬১৮৭০০

যেভাবে রাজধানী ঢাকার নামকরণ হলো

রিপোর্টার :
  • হালনাগাদ : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২০
  • ১১ Time View

যুগ-যুগান্তর ডেস্ক :
পৃথিবীর ব্যস্ততম শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম ঢাকা। বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার আগে এর রয়েছে লম্বা এক ইতিহাস। নামকরণ থেকে শুরু করে নামের পাশে নানা বিশেষণ। সব কিছু মিলেই সমৃদ্ধ ঢাকাতে পরিণত হয়েছে এ শহর।
স্বপ্নের নগরী ঢাকার রয়েছে গৌরবজ্জ্বল এক ইতিহাস। তবে আজকের ইট কাঠ পাথরের জঞ্জালে ভরা ঢাকা শহরকে দেখে অনেকেই ভুল করেন। জানেন কি? বর্তমানে ঢাকা রাজধানী হলেও আদিকালেও এর রূপ ছিল বেশ চকচকে। আজকের এই ঢাকা কিন্তু একদিনে আসেনি।
ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু নদের তীরে মানুষের বাস। আজ থেকে প্রায় ১৩০০ বছর আগে, সেই সপ্তম শতাব্দীতে এখানে মানুষের বসবাসের অস্তিত্ব জানা যায়। যদিও প্রথম দিকে এর ব্যাপ্তি বা প্রসার ছিল খুবই ধীর। সবুজ শ্যামলা, বনে ঘেরা ঢাকা আজ কল্পনা করাও কঠিন।

মুঘল আমলেই ঢাকার নামকরণ করা হয়

১৬০০ সালে মুঘল পরবর্তীতে ইংরেজদের শাসন, ৪৭ থেকে ৭১ পর্যন্ত পাকিস্তানি আমল, এরপর স্বাধীনতা পরবর্তী যুগ এবং বর্তমানে মেগাসিটি ঢাকা। ৭০০ সালের দিকেও লোকালয়ের খোঁজ পাওয়া গেলেও, মূলত মোগল আমলেই এই ঢাকা এলাকার গুরুত্ব বেড়ে যায় অনেক। বহু প্রচেষ্টার পর ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দের প্রথমদিকে, ইসলাম খাঁর (শেখ আলাউদ্দিন চিশতি) বাংলা দখলের মাধ্যমে মুঘল সাম্রাজ্য বাংলায় বিস্তার লাভ করে। ইসলাম খাঁ মুর্শিদাবাদ থেকে সরিয়ে ঢাকাকে বাংলা প্রদেশের রাজধানী নির্ধারণ করেন এবং তখন থেকেই মূলত ঢাকার সম্প্রসারণের প্রথম ধাপ শুরু হয়।

আচ্ছা এই শহরের নামটি রাখল কে? কীভাবেই বা শহরের নাম হলো ঢাকা? চলুন আজ জেনে নেব সেই ইতিহাস। এছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার নামকরণের ইতিহাস নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশে থাকছে বিশেষ আয়োজন। সেগুলো জানতে এবং ইতিহাসকে জানতে নজর রাখুন পরবর্তি পর্বগুলোতে-
ঢাকার রূপ বদলেছে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা মোঘল-পূর্ব যুগে কিছু গুরুত্বধারন করলেও শহরটি ইতিহাসে প্রসিদ্ধি লাভ করে মোঘল যুগে। ঢাকা নামের উৎপত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট করে তেমন কিছু জানা যায় না। এ সম্পর্কে প্রচলিত রয়েছে নানা মত। যেমন কেউ বলেন একসময় এ অঞ্চলে প্রচুর ঢাক গাছ (বুটি ফুডোসা) ছিল। আবার রাজধানী উদ্বোধনের দিনে ইসলাম খানের নির্দেশে এখানে ঢাক অর্থাৎ ড্রাম বাজানো হয়েছিল। আবার কেউ বা প্রমাণ করতে চান ‘ঢাকাভাষা’ নামে একটি প্রাকৃত ভাষা এখানে প্রচলিত ছিল, সেখান থেকেই এই শহরের নামকরণ।

তবে বিতর্ক এখানেই থেকে নেই। আরো রয়েছে- রাজতরঙ্গিণী-তে ঢাক্কা শব্দটি ‘পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র’ হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে অথবা এলাহাবাদ শিলালিপিতে উল্লেখিত সমুদ্রগুপ্তের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ডবাকই হলো ঢাকা।কথিত আছে যে, সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভ্রমণকালে সন্নিহিত জঙ্গলে হিন্দু দেবী দুর্গার বিগ্রহ খুঁজে পান। দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ রাজা বল্লাল সেন ঐ এলাকায় একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

যেহেতু দেবীর বিগ্রহ ঢাকা বা গুপ্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল তাই রাজা মন্দিরের নাম ঢাকেশ্বরী মন্দির। মন্দিরের নাম থেকেই কালক্রমে স্থানটির নাম ঢাকা হিসেবে গড়ে ওঠে। আবার অনেক ঐতিহাসিকদের মতে, মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর যখন ঢাকাকে সুবা বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন, তখন সুবাদার ইসলাম খান আনন্দের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ শহরে ‘ঢাক’ বাজানোর নির্দেশ দেন। এই ঢাক বাজানোর কাহিনী লোকমুখে কিংবদন্দির রূপ ধারণ করে এবং তা থেকেই এই শহরের নাম ঢাকা হয়ে যায়।

এখানে উল্লেখ্য যে, ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দে ইসলাম খান চিশতি সুবাহ বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামানুসারে এর নামকরণ করে জাহাঙ্গীরনগর।

বর্তমানে আহসান মঞ্জিল

মুঘল আমলে যখন বাংলার রাজধানী হিসেবে ঢাকাকে নির্ধারণ করা হয়, এর প্রসার শুরু হয় তখন থেকেই। সারা পৃথিবী থেকে মানুষ আসতে শুরু করে ঢাকার দিকে, হোক তা ব্যবসা বাণিজ্য কিংবা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে।

আরো পড়ুন: প্রত্যন্ত এই দ্বীপের বাসিন্দাদের দিন কাটে যেভাবে

যেহেতু নতুন রাজধানী স্থাপিত হয়েছিল, তাই অবকাঠামোগত বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পও হাতে নেয়া হয়। বর্তমান ঢাকার যে এলাকা পুরান ঢাকা নামে পরিচিত, সেটিই মোগল আমলে ছিল ঢাকার প্রাণকেন্দ্র। লম্বায় ২০ কিলোমিটার এবং আড়াআড়ি প্রায় ১২ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে ছিল তখনকার ঢাকা। সেসময় এখানে প্রায় ১০ লাখ লোক বাস করত বলে ধারণা করা হয়। এছাড়াও আলাদা প্রশাসনিক এলাকা ঢাকার বিস্তারকে ত্বরান্বিত করে।

বুড়িগঙ্গাই ছিল প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রবিন্দু

তবে বর্তমান ঢাকা অনেকটাই বদলে গেছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এর রূপ পরিবর্তন। যাই হোক না কেন, সাধা কালো ছবিগুলোতে এখনো জীবন্ত হয়ে আছে সেই পুরনো ঢাকা। যা আজ ইট সুড়কির তলে ঢাকা পড়েছে। ঢাকা শহর পৃথিবীতে নানা কারণে বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে রিকশার শহর হিসেবে কিন্তু বেশ খ্যাতি এর।

একসময় পুরান ঢাকার বকশিবাজার, রহমতগঞ্জ, চৌধুরি বাজার এলাকায় ঢাকার সীমাবদ্ধতা ছিল। তবে পরবর্তিতে তা সম্প্রসারিত হয়ে ফুলবাড়িয়া, নওয়াবপুর এবং চকবাজারের দিকে যায়। তবে পুরান ঢাকার ওদিকটাতেই ছিল ধনী এবং সম্ভ্রান্ত লোকেদের বাস।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই শাখায় অন্যান্য খবর