1. kmohiuddin456@gmail.com : admin :
  2. dailybanglarrobi@gmail.com : Arif Mahamud : Arif Mahamud
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে, যোগাযোগ : ০১৭০৮ ৫১৫৫৩৫, প্রচারেই প্রসার # সকল প্রকার বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - ০১৭১২ ৬১৮৭০০

শাশুড়ির শত কোটি টাকা নেয়ার অভিযোগ, জামাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

রিপোর্টার :
  • হালনাগাদ : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২০
  • ১২০ Time View

বগুড়া প্রতিনিধি :
অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শিল্পপতি শাশুড়ির এফডিআর, মার্কেট, পাম্পসহ অন্যান্য সম্পদ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে আনোয়ার হোসেন রানার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তার শাশুড়ি দেলওয়ারা বেগম। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
বগুড়া শহরের শিল্পপতি সরিফ হাজী মারা গেলে তার বড় মেয়েকে বিয়ে করেন আনোয়ার হোসেন রানা। বড় জামাই হওয়ায় শাশুড়ির সম্পত্তির দেখভাল করেন। অন্য চার মেয়ে বিয়ে হয়ে অন্যত্র গেলে রানা শ্বশুর বাড়িতে থেকে কৌশলে বগুড়া শহরের নবাববাড়ী সড়কের শেখ সরীফ উদ্দিন মার্কেট, দুটি সিএনজি পাম্প, বিড়ি ফ্যাক্টরিসহ ২টি বাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেন।

অভিযোগ উঠেছে, একসময় লিমিটেড কোম্পানির সব সম্পত্তি জাল কাগজ করে নিজের স্ত্রীর নামে লিখে নেন। এছাড়াও ব্যাংকের গচ্ছিত শতকোটিও টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। ওই মামলায় আসামী করা হয়েছে রানার স্ত্রী আকিলা সরিফা সুলতানা খানম আঞ্জুয়ারাকেও। তবে আনোয়ার হোসেন রানার পাল্টা অভিযোগ, শাশুড়িসহ অন্য মেয়েদের ষড়যন্ত্রের শিকার তিনি।

দেলওয়ারা বেগম জানান, জামাই আনোয়ার হোসেন রানা পিস্তল উঁচিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছিলেন। এরই মাঝে গত ২১ সেপ্টেম্বর বাসার আলমারি-সিন্দুক থেকে নগদ অর্থ, ব্যাংকের চেক, এফডিআর এবং ব্যবসায়িক সকল নথিপত্র নিয়ে চলে যান।

ভুক্তভোগী দেলওয়ারা বেগম বগুড়া সদরের কাটনারপাড়া এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মৃত শেখ সরিফ উদ্দিনের স্ত্রী। গত ৫ বছর ধরে দেখা শোনার অজুহাতে তার কাছেই ছিলেন মেয়ে-জামাই। সেবা-শুশ্রূষার অজুহাতে কখনো শাশুড়িকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে আবার কখনো জিম্মি করেন রানা।

ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, স্বামীর মৃত্যুর পর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শরিফ বিড়ি ফ্যাক্টরি পরিচালনা করছিলেন তিনি। এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে ছিলেন তার পাঁচ মেয়ে আকিলা শরিফা সুলতানা, মাহবুবা শরিফা সুলতানা, নাদিরা শরিফা সুলতানা, কানিজ ফাতিমা ও তৌহিদা শরিফা সুলতানা। অংশীদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা শহরের শাকপালা ও চারমাথা এলাকায় শরিফ সিএনজি লিমিটেড নামের দুটি ফিলিং স্টেশন এবং নবাববাড়ি রোডে দেলওয়ারা-শেখ শরিফ উদ্দিন সুপার মার্কেট পরিচালনা করে আসছিলেন।

দেলওয়ারা বেগম আরো অভিযোগ করেন, তিনি অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর জামাই আনোয়ার হোসেন রানা ও মেয়ে আকিলা সরিফা সুলতানাকে ব্যবসা দেখাশোনার মৌখিক অনুমতি দেন তিনি। তবে এক পর্যায়ে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফাঁকা স্ট্যাম্প, ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক চেক ও এফডিআরসহ বিভিন্ন নথিপত্রে তার সই নেন জামাই। এরপর তার নিজের নামীয় ব্যাংক একাউন্ট থেকে নগদ টাকাসহ এফডিআর ভাঙিয়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকারও বেশি তুলে নেন।

২০১৫ সালের ১ জুন থেকে চলতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অর্থ তুলে আত্মসাৎ করেছেন মেয়ে-জামাই। এরই বাইরে একই সময়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও তার নামীয় ব্যাংক হিসাব থেকে আরও ৫০ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন। এ কাজে সহায়তা করেছেন শরিফ বিড়ি ফ্যাক্টরির ব্যবস্থাপক কাম ক্যাশিয়ার নজরুল ইসলাম, ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক হাফিজার রহমান এবং সুপারমার্কেটের ব্যবস্থাপক তৌহিদুল ইসলাম।

এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বরে আনোয়ার হোসেন রানার বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন মরহুম শরিফ উদ্দিনের চার মেয়ে মাহবুবা শরিফা সুলতানা, নাদিরা শরিফা সুলতানা, কানিজ ফাতিমা ও তৌহিদা শরিফা সুলতানা।তাদের অভিযোগ, অসুস্থ বিধবা মা দেলওয়ারা বেগমকে জিম্মি করে, ভুল বুঝিয়ে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন আনোয়ার হোসেন রানা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই শাখায় অন্যান্য খবর