1. kmohiuddin456@gmail.com : admin :
  2. dailybanglarrobi@gmail.com : Arif Mahamud : Arif Mahamud
  3. jahedulhaque24@gmail.com : Jahidul Hoque Masud : Jahidul Hoque Masud
মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:০২ অপরাহ্ন
নোটিশ :
সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে, যোগাযোগ : ০১৭০৮ ৫১৫৫৩৫, প্রচারেই প্রসার # সকল প্রকার বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - ০১৭১২ ৬১৮৭০০

অনলাইন ক্লাসে অনীহা

রিপোর্টার :
  • হালনাগাদ : রবিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৪৩ Time View

বৈশ্বিক মহামারি করোনায় তছনছ শিক্ষাব্যবস্থা। দীর্ঘ ৯ মাস সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। আবারো শুরু হয়েছে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ। সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চালু হলেও কেবল বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে এর মাঝেও অনলাইন, টিভি, বেতার ও মোবাইলে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রেখেছে সরকার। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইন, মোবাইলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করে পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করছে।

তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের অভিযোগ- অনলাইন ক্লাসের গুরুত্ব তেমন দেখছে না। আগের মতো ক্লাসে আর মনোযোগ দিতে পারছে না। ক্লাস অ্যাসাইমেন্ট দিলেও পড়াশোনার প্রতি সেই আগের মতো আগ্রহ বাড়ছে না বলে অনেকেই বলছেন। তবে শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করে বলছেন, আমরা কি নতুন বছরে স্কুলে গিয়ে ক্লাস করতে পারবো।

মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ইতু আমার সংবাদকে জানান, প্রথম যখন ভর্তি হয়েছিলাম তখন ক্লাসের খুব আগ্রহ ছিলো। কলেজের প্রতি গুরুত্বও ছিলো অনেক। এখন আগের মতো পড়াশোনায় আর জোর পাচ্ছি না।

তিনি বলেন, অনলাইন ক্লাসে অনেক বিষয় বুঝতে সমস্যা হয়। পরীক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আগে তিন ঘণ্টা পরীক্ষা দেয়ার বিষয়ে টার্গেট রেখে যে পড়াশোনা করেছি, সেটা এখন আর হচ্ছে না। দ্বাদশ শ্রেণির এ ছাত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আমরা কি ভালোভাবে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারবো? করোনা আবার কি আমাদের থেমে দেবে কি-না?

এছাড়াও ২০২১ সালের কয়েকজন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সাথে কথা হলে তারা আমার সংবাদকে জানায়, এখন ক্লাসে যেতে পারছি না। আবার কলেজের যে ভিডিও টিউটরিয়ালগুলো দেয় সেগুলো ভালোভাবে বুঝতেও পারি না। বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে কয়েকজন পরীক্ষার্থী মিলে ব্যাচ করে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে। আবার অনেক পরীক্ষার্থী আর্থিক সমস্যার কারণে বাসায় এককভাবে টিউটর নিয়ে পড়তে পারছে না। ফলে তাদের ভরসা একসঙ্গে ব্যাচ করে পড়া।

অপরদিকে আজিমপুর অগ্রণী স্কুল এন্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিভাবক আমার সংবাদকে বলেন, গত অক্টোবর মাসে তৃতীয় শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞানের চতুর্থ অধ্যায়ের একটা ভিডিও ক্লাস ১৯ নভেম্বরে আবারো দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, একই ক্লাস বারবার নিলে বাচ্চারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তারা পুরাতন ক্লাস করতে চায় না, মোবাইল নিয়ে গেম খেলে। এ অভিভাবক আরও বলেন, স্কুল বন্ধ থাকায় বাচ্চারা কেমন একঘেয়েমি হয়ে গেছে। পড়াশোনার জন্য জোর করলেও আগের মতো পড়াশোনা করতে চায় না, মাঝে মধ্যেই শুধু জেদ করে বলে জানান তিনি।

এ অভিভাবক শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এখন তো শীতের সময়, শুনলাম করোনা আবার বাড়বে। তিনি বলেন, আসছে ২০২১ সালে নতুন বছরে বাচ্চারা কি আবার আগের মতো স্কুলে গিয়ে লেখাপড়া করতে পারবে।

এ বিষয়ে অগ্রণী স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল রেজাউজ্জামান আমার সংবাদকে বলেন, ক্লাসে যখন একটা চ্যাপ্টার শেষ করা হয়। পরের ক্লাসে ওই চ্যাপ্টারের রিভিশন হয় এটা স্বাভাবিক, একে নেগেটিভলি দেখার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, অনেক বাচ্চা আছে যারা লেখাপড়াটাকে আনন্দের সাথে নেয় না। এখানে শিক্ষকের যেমন দায়িত্ব আছে পাশাপাশি বাবা-মায়েরও একটা দায়িত্ব আছে।

তিনি বলেন, ক্লাসের বিষয়ে অভিযোগ না করে অভিভাবকরা যদি সরাসরি আমাদের সাথে বেটার কিছু শেয়ার করে তাহলে সংকটকালীন সময়ে বাচ্চাদেরই ভালো হবে।

এছাড়াও প্রিন্সিপাল বলেন, আমরা সবসময় প্রস্তুতি নিয়ে আছি সরকারের নির্দেশনা দেয়া মাত্র স্কুলে ক্লাস কার্যক্রম চালু করতে পারবো।

অনলাইন ক্লাসের অনীহার বিষয়ে জানতে চাইলে, গণসাক্ষরতা অভিযানের পরিচালক ও শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী আমার সংবাদকে বলেন, শুধু অনলাইন একমাত্র মাধ্যম তা তো না। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ সংসদ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও মোবাইলেও ক্লাস করানো হচ্ছে। এই মুহূর্তে আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করা হলেও অনেকেই এ সকল সুযোগ-সুবিধার বাইরে আছে। বড় একটা গোষ্ঠী কিন্তু অনলাইন ক্লাসের বাইরে আছে।

তিনি বলেন, সারা দেশের তথ্য-উপাত্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে নেয়ার দরকার। রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, অনেক শিক্ষক সংগঠন আছে যারা আমাদের সাথে জড়িত। তিনি বলেন, অনেক শিক্ষক স্বপ্রণোদিত হয়ে দিনে অন্তত ২০ মিনিট করে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। যেকোনোভাবেই শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। বাস্তবতা হলো- সবাই তো আর এ সুযোগ পাচ্ছে না। এর মাঝেও যারা পাচ্ছে তারা অনেকেই উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে।

কোচিং যত কম হয় ততই ভালো উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, অভিভাবকদের উচিত জিপিএ-৫ এর পেছনে না ছোটা। এর জন্য বাচ্চাদের চাপ দেয়ায় কোচিংয়ের জন্য তারা দৌড়ঝাঁপ করে। ও লেভেল, এ লেভেল শিক্ষায় যদি কোচিং না প্রয়োজন হয় তাহলে জেনারেল লেভেলটা কেন পারছেন না। স্কুল খোলার বিষয়ে তিনি বলেন, এটার জন্য কমিটি আছে তারা ভালো বলতে পারবেন।

তবে, সরকারের কাছে যদি সঠিক তথ্য-উপাত্ত থাকে যে সব এলাকায় সংক্রমণের হার কম, তাহলে সেখানে সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যায়। এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সম্প্রতি একটা জুম মিটিংয়ে বলেছেন, স্কুলগুলোর ক্লাস কখন শুরু কবে তা পুরোপুরি করোনা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।

এখন আশঙ্কা করা হচ্ছে শীতের সময় করোনা বাড়বে। শীত বেশি থাকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত। তাই তীব্র শীতের সময়টা পার হয়ে গেলে তারপর আমরা খুলতে পারবো। সেটিও নির্ভর করবে করোনা পরিস্থিতির ওপর, আগাম বলার সুযোগ নেই।

মন্ত্রী বলেন, আমরা অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি। সব প্রস্তুতি রাখছি। যখনই ক্লাস খোলার মতো পরিস্থিতি হবে তখন খুলবো। তবে যখন খুলবো তখনো আমাদের খোলার কিছু দিন পর্যন্ত কীভাবে পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস নিতে পারবো সেই ব্যবস্থাটা নিয়েই আমাদের করতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হলে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দফায় দফায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়িয়ে আগামী ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (কওমি মাদ্রাসা ছাড়া) বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

এই শাখায় অন্যান্য খবর
%d bloggers like this: