1. kmohiuddin456@gmail.com : admin :
  2. printrajbd@gmail.com : admin1 :
  3. dailybanglarrobi@gmail.com : Arif Mahamud : Arif Mahamud
  4. jahedulhaque24@gmail.com : Jahidul Hoque Masud : Jahidul Hoque Masud
বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে, যোগাযোগ : ০১৭০৮ ৫১৫৫৩৫, প্রচারেই প্রসার # সকল প্রকার বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - ০১৭১২ ৬১৮৭০০

করোনায় গতি হারিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসার ১২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

রিপোর্টার :
  • হালনাগাদ : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০
  • ৫১ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাস্তবায়নাধীন চট্টগ্রাম ওয়াসার ‘চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নয়ণ ও স্যানিটেশন প্রকল্প’ এর আওতায় নগর জুড়ে ১৬০ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন ও বিতরণ লাইন বসানো হবে। ইতিমধ্যে ১৫৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার লাইন বসানোও হয়েছে। শুধুমাত্র ৬০০ মিটার ট্রান্সমিশন ও বিতরণ লাইনের কাজ শেষ হওয়ার আগেই করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে প্রকল্পের কাজ। ফলে চলতি জুন মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন নতুন করে কাজ শুরু করা নিয়েই দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এই ৬০০ মিটার বিতরণ লাইন বসাতে প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর জন্য ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে দেশব্যাপী লকডাউনে চট্টগ্রাম ওয়াসার চলমান ৩টি ও প্রক্রিয়াধীন প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প কমপক্ষে ৬ মাস থেকে এক বছরের জন্য পিছিয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে বর্তমান গ্রাহকদের পানির চাহিদা প্রতিদিন ৪২ কোটি লিটারের বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে ৩৬ কোটি লিটার। অর্থাৎ স্বাভাবিক উৎপাদনে প্রতিদিন ঘাটতি থাকছে কমবেশি ৬ কোটি লিটার। চলতি জুন মাসেই চলমান কর্ণফুলী পানি সরবরাহ (ফেইজ-২) থেকে প্রতিদিন ১৪ কোটি ৩০ লাখ লিটার পানি পরিশোধন শেষে সরবরাহ লাইনে যোগ হওয়ার কথা ছিল।

ওয়াসা কর্মকর্তাদের মতে, ঘাটতি মিটিয়েও তখন পানি উদ্বৃত্ত থাকতো। অথচ মার্চ মাস থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে কাজটি সেখানেই থমকে গেছে।

জানা গেছে, ১ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১১ সালে শুরু হওয়া বাস্তবায়নাধীন ‘চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নয়ণ ও স্যানিটেশন প্রকল্প’ চলতি জুন মাসেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পটির ৯৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। করোনা সংক্রমণের কারণে গত মার্চ মাস থেকেই প্রকল্পটির কাজ থমকে গেছে। এই প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে ৯ কোটি লিটার উৎপাদন ক্ষমতার শেখ রাসেল পানিশোধনাগার, সাড়ে কোটি লিটার ধারণ ক্ষমতার পতেঙ্গা বুস্টার পাম্প ও ১০ কোটি লিটারে ধারণ ক্ষমতার কালুরঘাট বুস্টার পাম্পের পূণর্বাসন কাজ শেষ হয়েছে। তবে ১৬০ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন ও বিতরণ লাইনের মধ্যে ১৫৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার লাইন বসানোর কাজও শেষ। শুধু ৬০০ মিটার ট্রান্সমিশন ও বিতরণ লাইনের কাজ শেষ হওয়ার আগেই করোনার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে প্রকল্পের কাজ। কাজটি শেষ হলে ইপিজেড থেকে চট্টগ্রাম শহরের সর্বদক্ষিণের পতেঙ্গা এলাকার পানি সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়ে যেতো বলে জানিয়েছেন ওয়াসার কর্মকর্তারা। বর্তমানের দৈনিক দেড় কোটি লিটারের পরিবর্তে সাড়ে ৪ কোটি লিটার পানি পেতো এখানকার গ্রাহকরা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনা সংক্রমণের শুরুতেই ডেনমার্কের কারিগরী পরামর্শকরা নিজ দেশে ফিরে গেছে। তাঁরা কবে ফিরবে সেটাও অনিশ্চিত। তাছাড়া যে সামান্য কাজ বাকী আছে সেটাও জটিল। এ কারণে মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্প ব্যয় বাড়বে না।

একই প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে থাকা ৩ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম মহানগরী পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন প্রকল্পটিও (১ম পর্যায়) করোনার প্রকোপে পিছিয়ে গেছে। প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, গত মে মাসে ঠিকাদার নিয়োগের দরপত্র আহবান করার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে মালয়েশিয়ান পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারার দেশে ফিরে গেছেন। আপাতত আগষ্টের আগে মনে হচ্ছে না ঠিকাদার নিয়োগের দরপত্র আহবান করা যাবে।

বাস্তবায়নাধীন কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পেও (ফেইজ-২) করোনার কালো ছায়া পড়েছে। ৪ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকার প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২০২২ সালের জানুয়ারী মাসে। মার্চ মাসে প্রকল্পের কাজ থমকে যাওয়ার আগে প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। জুন মাসের মধ্যে রাঙ্গুনীয়া উপজেলায় স্থাপিত পানি শোধনাগার থেকে দৈনিক ১৪ কোটি ৩০ লাখ লিটার পরিশোধিত পানি সরবরাহ লাইনে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। এই পানি যুক্ত হলে চট্টগ্রামের আবাসিক ও অনাবাসিক ৭৭ হাজার গ্রাহকের পানি সমস্যার আপাত সমাধান হতো বলে মনে করছেন ওয়াসার কর্মকর্তারা। এ ছাড়া সরবরাহ লাইনে নতুন পানি যুক্ত হলে ভূগর্ভস্থ মাটির জন্য ক্ষতিকর গভীর নলকূপ থেকে পানি উত্তোলণ বন্ধ করে দেওয়া যেতো।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী ও কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প (ফেইজ-২) এর প্রকল্প পরিচালক মাকসুদ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ট্রান্সমিশন লাইন ও ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেলেও বিতরণ লাইনের কাজ বন্ধ হয়ে আছে। চাইনিজ ঠিকাদারের লোকজন বাংলাদেশে অবস্থান করলেও বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের প্রধান কার্যালয় ও চীনা দূতাবাসের নির্দেশে তারা কোয়ারেন্টিনে আছে। এ কারণে কবে নাগাদ আটকে থাকা কাজগুলো শুরু করা যাবে সেটাও নিশ্চিত নই। তারপরেও আশা করছি সেপ্টেম্বরের মধ্যে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প (ফেইজ-২) থেকে পানি সরবরাহ লাইনে যোগ করতে পারবো।

একই কারণে ঝুলে গেছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর বাম তীরবর্তী উপজেলা আনোয়ারা, বোয়ালখালী এবং পটিয়া এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণ ও গড়ে উঠা বিভিন্ন শিল্প কারখানায় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম ওয়াসার ‘ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্প’। ১ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দৈনিক ৬ কোটি লিটার পানি যুক্ত হবে চট্টগ্রাম ওয়াসার সরবরাহ লাইনে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

এই শাখায় অন্যান্য খবর
%d bloggers like this: