1. kmohiuddin456@gmail.com : admin :
  2. printrajbd@gmail.com : admin1 :
  3. dailybanglarrobi@gmail.com : Arif Mahamud : Arif Mahamud
  4. jahedulhaque24@gmail.com : Jahidul Hoque Masud : Jahidul Hoque Masud
সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ০৯:৫৩ অপরাহ্ন
নোটিশ :
সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে, যোগাযোগ : ০১৭০৮ ৫১৫৫৩৫, প্রচারেই প্রসার # সকল প্রকার বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন - ০১৭১২ ৬১৮৭০০

‘পশু গুলারে কই রাখমু আর আমরাই কই থাকমু ’

রিপোর্টার :
  • হালনাগাদ : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০
  • ৮১ Time View

নেত্রকোনা প্রতিনিধি:

‘এই বছর দুর্যোগের মধ্য দিয়েই যাইতাছি। কয়েকদিন আগে করোনাভাইরাস, এহন আবার নতুন করে বন্যা শুরু হইছে। আমরা তো দিন আইন্না দিন খাই। একদিন কাজ না করলে পরের দিন পেটে ভাত জুটে না। হাঁস-মুরগি, গরু ছাগল লইয়া আও পড়ছে এহন বিপদে। সবকিছুই পানিতে তলিয়ে গেছে। যেদিকে যাই পানি আর পানি। এখন আমরাই কই থাকমু আর পশু গুলারে কই রাখমু।’
কথাগুলো বলছিলেন বন্যাকবলিত নেত্রকোনার দুর্গাপুরের সাতাশি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাকিম।

পাহাড়ি নদী সোমেশ্বরীর পানিতে ভাসছে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের নিম্নাঞ্চল। গত কয়েকদিন টানা বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বাড়তে শুরু করেছে সুমেশ্বরী নদীর পানি। বিপদ সীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও তিন-চার ঘণ্টা স্থায়ী থেকে আবারো কমতে শুরু করেছে নদীর পানি ।

মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত নদীর পানি কমে স্বাভাবিক হলেও প্রভাব পড়ে আশপাশের নিম্নাঞ্চলগুলোতে। উপজেলার গাঁওকান্দিয়া, বিরিশিরি, কাকৈরগড়া, চন্ডিগড়, বাকলজোড়া ইউপির প্রায় শতাধিক গ্রামে সোমেশ্বরীর ঢলের পানি রূপ নিয়েছে বন্যায় ।

এইসব অঞ্চলের রাস্তাঘাট ও বেরিবাঁধ ভেঙে হাজারো পরিবার পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। পানির তোড়ে তলিয়ে গেছে আমন ধানের বীজতলা ও মাছের ফিশারিও ।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ ও মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্যমতে, উপজেলার চারটি ইউপির ৫০ হেক্টর জমির আমনের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও ৭০ টি পুকুরের মাছ ঢলের পানিতে ভেসে গেছে। এতে অর্ধকোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

গাঁওকান্দিয়া ইউপির ভাদুয়া, শ্রীপুর, বন্দ ঊষান, শংকরপুর, চন্ডিগড় ইউপির দক্ষিণ সাতাশি, মধুয়াকোনা, নিলাখালী, চারি খাল, বনগ্রাম, বাকলজোড়া ইউপির মাদুর পাড়, ছোট কাঠুরিয়া, কাকৈরগড়া ইউপির কৃষ্ণের চর লক্ষীপুর কালা মার্কেটসহ নিম্ন এলাকাগুলোর খুবই করুণ অবস্থা। এইসব এলাকার বাড়িঘর, ব্যবসায়িক, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছু এখন বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

একদিকে করোনা অপরদিকে বন্যার প্রভাবে এইসব এলাকার মানুষগুলো পড়েছে চরম বিপাকে। যে যার মত করে নদীর পাড় ও বাপ দাদার রেখে যাওয়া ভিটা বাঁশ কাঠ দিয়ে ভাঙন থেকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন ধরেই কর্মহীন উপজেলার অনেক মানুষ। তার উপর নতুন এই দুর্যোগে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে তাদের চোখে-মুখে। মাঠ ঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পশু খাদ্য সংগ্রহে বেগ পেতে হচ্ছে তাদের। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে না খেয়ে মরতে হবে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দারা ।

এদিকে বন্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান ইউএনও ফারজানা খানম।

তিনি বলেন, বন্যায় বানভাসি মানুষদের খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে এরইমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় খাদ্য সহায়তা পৌঁছানো হয়েছে। আর গাওকান্দিয়া ইউপির বেড়িবাঁধ ভাঙন মোকাবিলায় এরই মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ টাকার বরাদ্দ চলে আসছে। যেসব এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ওই এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

এই শাখায় অন্যান্য খবর
%d bloggers like this: