1. admin@banglarrobi.com : admin :
  2. jahedulhaque24@gmail.com : Masud Rahman : Masud Rahman
শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশ:
সংবাদাতা নিয়োগ চলছে... যোগাযোগ : 01708515535

রাজস্ব মামলা আদায় হবে ৩১ হাজার কোটি টাকা

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২০
  • ১১৪ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আদালতে বিচারাধীন রাজস্ব মামলার সংখ্যা ২৪ হাজার ৫৭২। এসব মামলা নিষ্পত্তি হলে রাজস্ব খাতে সরকারের আদায় হবে ৩০ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা। মামলাগুলোর বেশির ভাগই বিচারাধীন। বছরের পর বছর এসব মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় সরকার বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মামলা করে দীর্ঘ সময় কৌশলে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে অনেক প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে এসব মামলা নিষ্পত্তি করতে কয়েক ধাপে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথম ধাপে এনবিআরের ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট থেকে এ ধরনের ১১৪টি প্রতিষ্ঠানের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, ১১৪টি প্রতিষ্ঠানের মামলা নিষ্পত্তি করা গেলে সরকারের রাজস্ব আদায় হবে পাঁচ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় এ অর্থ আদায় করা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের অনেকের দাবি, এনবিআরের সঙ্গে একমত হতে না পেরেই তাঁরা মামলা করেছেন। আদালতে মামলা নিষ্পত্তিতে সময় লাগলে এর জন্য ব্যবসায়ীরা দায়ী নন।

অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া প্রতিষ্ঠান চিহ্নিতের পর এনবিআর তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেই পাওনা রাজস্ব দাবি করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অসাধু কিছু ব্যবসায়ী রাজস্ব পরিশোধ প্রক্রিয়া স্থগিত করতে বা দীর্ঘ সময় বিলম্ব করতে মামলা করেন। মামলার শুনানি, ট্রাইব্যুনাল, জজকোর্ট, হাইকোর্ট, তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন—এসব করতে বছরের পর বছর সময় লাগে। এই সুযোগ নেন অনেক ব্যবসায়ী। এর ব্যতিক্রমও রয়েছেন অনেকে।

এনবিআরকে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠান আমদানি-রপ্তানির সময় মিথ্যা তথ্য দিয়ে হিসাবের চেয়ে কম রাজস্ব পরিশোধ করে। এনবিআর তদন্ত করে এসব প্রতিষ্ঠানকে পাওনা পরিশোধে নির্দেশ দেয়। পাওনা আদায়ে অনেক সময় আমদানি বা রপ্তানি করা পণ্য বন্দরে আটকে রাখা হয়। এমন পরিস্থিতিতে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মামলা করে ব্যাংকের অঙ্গীকারনামা দিয়ে পণ্য ছাড়িয়ে নেয়। কিন্তু মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আর এনবিআর পাওনা রাজস্ব আদায় করতে পারে না। এদিকে দিন দিন আদালতে মামলাজট বাড়ায় কবে নাগাদ এসব মামলার নিষ্পত্তি হবে, তা কেউ জানে না।

আদালতের এসব মামলা বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দ্রুত নিষ্পত্তি করা গেলে সরকারের রাজস্ব আদায় সম্ভব হতো।

ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কমিশনার শওকত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেক প্রতিষ্ঠান মিথ্যা তথ্য দিয়ে কম রাজস্ব পরিশোধের চেষ্টা করে। এনবিআরের তদন্তে তা চিহ্নিত করে পাওনা পরিশোধে নির্দেশ দেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে অনেক প্রতিষ্ঠান মামলা করে ব্যাংকের অঙ্গীকারনামা দিয়ে পণ্য ছাড়িয়ে নেয়। এতে মামলার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় সরকারের রাজস্ব আদায়ও ঝুলে যায়। অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে অনিষ্পত্তি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একটি তালিকাও দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এসব মামলা নিষ্পত্তি করা হবে।’

তিনি জানান, ২০১৫ সালে মেসার্স সোহানা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান আটটি চালানে পণ্য আমদানিতে ৮৩ কোটি টাকা শুল্ক পরিশোধ করে। এনবিআরের তদন্তে এসব চালানে রাজস্ব পাওনা হয় ১৪৪ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য আটকে শুল্ক পরিশোধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি এনবিআরের বিরুদ্ধে মামলা করে ব্যাংকের অঙ্গীকারনামা দিয়ে পণ্য ছাড়িয়ে নেয়। এরপর গত পাঁচ বছরেও মামলাটি নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে এখনো এনবিআর পাওনা রাজস্ব আদায় করতে পারেনি। এ রকম আরো অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এনবিআর থেকে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে পাঠানো চিঠিতে যেসব প্রতিষ্ঠানের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে সাভার ডিইপিজেডের মেসার্স চায়না সাউথ ব্লিচিং অ্যান্ড ডায়িং ফ্যাক্টরি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির মামলা নম্বর ডাব্লিউপি-১৪৭৯২/২০১৭ ও ৫৪২১/২০১৮। এই মামলায় জড়িত শুল্ককরের পরিমাণ ৭১৯ কোটি ৭৭ লাখ ৬৭ হাজার ৯৮৬ টাকা। এনবিআর প্রতিষ্ঠানটিকে এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডসহ ৭২০ কোটি ৭৭ লাখ ৬৭ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকার রাজস্ব দাবি করেছে।

গাজীপুরের ভোগরা এলাকার মেসার্স নাসরিন জামান নিটওয়্যার লিমিটেডের মামলা নম্বর ডাব্লিউপি-৮৬৯০/১৯। প্রতিষ্ঠানটির জড়িত শুল্ককর ৬২ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৫ টাকা। এনবিআর প্রতিষ্ঠানটিকে পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ডসহ ৬৭ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৫ টাকার রাজস্ব পরিশোধ করতে নির্দেশ দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকার মেসার্স বাংলাদেশ তাইওয়ান সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মামলা নম্বর ডাব্লিউপি-৯৮৬৪/১৯। জড়িত শুল্ককরের পরিমাণ ৪০ কোটি আট লাখ ৭৮ হাজার ৪০৮ টাকা। প্রতিষ্ঠানটিকে অর্থদণ্ড করা হয় ১৫ কোটি টাকা। আর

প্রতিষ্ঠানটির কাছে এনবিআর রাজস্ব পাওনা দাবি করেছে ৫৫ কোটি আট লাখ ৭৮ হাজার ৪০৮ টাকা।

গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার মেসার্স গ্যালাক্সি সোয়েটার অ্যান্ড ইয়ার্ন ডায়িং লিমিটেডের মামলা নম্বর ডাব্লিউপি-৫৬৫৫/১৩। অর্থদণ্ড করা না হলেও প্রতিষ্ঠানটির কাছে শুল্ককর হিসাবে ৪৯ কোটি ৭২ লাখ ১০ হাজার ৪৮২ টাকা দাবি করেছে এনবিআর।

ময়মনসিংহের ভালুকার বড়াডুবা এলাকার মেসার্স এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল লিমিটেডের মামলা নম্বর ডাব্লিউপি-১০৫৬৫/২০১৭। এনবিআর প্রতিষ্ঠানটিকে ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ৩৪ হাজার ৬৩২ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট এলাকার মেসার্স আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড শিল্প ওয়েজ লিমিটেডের মামলা নম্বর ডাব্লিউপি-২৪৬২/২০১৭। জড়িত শুল্ককরের পরিমাণ ৩৫ কোটি ১৭ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৯ টাকা। এনবিআর প্রতিষ্ঠানটিকে এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডসহ ৩৬ কোটি ১৭ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৯ টাকা রাজস্ব পরিশোধে নির্দেশ দিয়েছে।

মেসার্স এইচ কবীর অ্যান্ড কম্পানি লিমিটেডের মামলা নম্বর ডাব্লিউপি-১৭৬৭২/২০১৭। এনবিআর প্রতিষ্ঠানটিকে ৩১ কোটি ৩২ লাখ ২২ হাজার ৯৬০ টাকা রাজস্ব পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে।

নরসিংদীর পলাশ এলাকার চরসিন্দুরের কাওয়াদির মেসার্স দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেডের মামলা নম্বর ডাব্লিউপি-১৫৮৩৭/২০১৮। তাদের শুল্ককরের পরিমাণ ১৫৭ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪৪ টাকা। এনবিআর ১০ কোটি টাকা অর্থদণ্ডসহ প্রতিষ্ঠানটিকে ১৬৭ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪৪ টাকার রাজস্ব পরিশোধ করতে বলেছে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এনবিআরের সঙ্গে পাওনা রাজস্ব নিয়ে অনেক সময় ব্যবসায়ীরা একমত হতে পারবেন না, এটা সত্য। মামলাও হবে। তবে কত দিনে মামলা নিষ্পত্তি হবে, এর দায় ব্যবসায়ীদের নয়। এ ছাড়া এনবিআরের দাবি করা সব টাকাই যে তারা পাবে, তা-ও কিন্তু না।’

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হয়েই এনবিআর পাওনা আদায়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু পাওনা পরিশোধ না করে অনেক প্রতিষ্ঠান মামলা করে পুরো রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখে। সবাই জানে, আমাদের দেশে মামলা নিষ্পত্তিতে সময় লাগে। রাজস্ব পরিশোধ না করতেই অনেক সময় মামলা করা হয়। ব্যাংকের একটি অঙ্গীকারনামা দিয়ে পণ্য ছাড়িয়ে নেয়। দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি হলে সরকারের রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
All rights reserved © 2021 Banglarrobi.com
Theme Customization By NewsSun